অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের গুজব ছড়ালে ব্যবস্থা, সতর্ক করল বিদ্যুৎ বিভাগ
অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে প্রমাণবিহীন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের বিরুদ্ধে শুরুতে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হলেও পরে সেই অবস্থান থেকে সরে আসে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।
সোমবার (৪ আগস্ট) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এতে বলা হয়, অভিযোগ পাওয়া বিলগুলো বিদ্যুৎ বিভাগ ও বিতরণ সংস্থাগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। কোনো গ্রাহকের অভিযোগ থাকলে প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করার আহ্বানও জানানো হয়।
প্রথম বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছিল, প্রমাণ ছাড়া অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে একই রাতে পাঠানো সংশোধিত বিবৃতিতে ওই অংশ বাদ দেওয়া হয়। সেখানে আইনগত ব্যবস্থার হুঁশিয়ারির পরিবর্তে এ বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানানো হয়।
উল্লেখ্য, গত মে ও জুন মাসের বিদ্যুৎ বিল নিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য গ্রাহক অস্বাভাবিক বিল পাওয়ার অভিযোগ করেন। অনেকের দাবি, নিয়মিত প্রায় চার হাজার টাকা বিল পরিশোধ করলেও জুন মাসের ব্যবহারের জন্য জুলাইয়ে তাঁদের ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বিল এসেছে।
পোস্টপেইড গ্রাহকদের একটি অংশের অভিযোগ, মিটার রিডারদের দায়িত্বে অবহেলার কারণে বিল সমন্বয়ের সময় অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হয়েছে। তবে সরকারি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, জুন মাসে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বিদ্যুতের ব্যবহার বেড়ে যাওয়া, স্ল্যাব পরিবর্তন এবং খুচরা পর্যায়ে ১৭ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি কার্যকর হওয়ায় বিলের পরিমাণ বেশি এসেছে।
বাড়তি বিলের অভিযোগ যাচাইয়ে বিদ্যুৎ বিভাগ হেল্পলাইন চালু করলেও তাদের দাবি, অভিযোগের ভিত্তিতে অতিরিক্ত বিলের কোনো ঘটনা প্রমাণিত হয়নি। অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.