তুরস্কে প্রতিদিন ১০ লাখ ব্যারেল তেল পাঠাতে বড় পরিকল্পনা ইরাকের

প্রকাশিত: ২৯ জুলাই, ২০২৬ ১০:২৬ (বৃহস্পতিবার)
তুরস্কে প্রতিদিন ১০ লাখ ব্যারেল তেল পাঠাতে বড় পরিকল্পনা ইরাকের

উত্তর ইরাকের কিরকুক তেলক্ষেত্রে ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম (বিপি) পরিচালিত প্রকল্পের ১৫ শতাংশ অংশীদারিত্ব কিনছে তুরস্কের রাষ্ট্রায়ত্ত তুর্কি পেট্রোলিয়াম (টিপিওএ)। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে শিগগিরই ইরাক থেকে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১০ লাখ ব্যারেল তেল পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার রাজধানী আঙ্কারায় ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জায়েদির সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এরদোয়ান জানান, পৃথক একটি শেয়ার হস্তান্তর চুক্তির আওতায় টিপিওএ বিপি এনার্জি কোম্পানি অব কিরকুক লিমিটেডের ১৫ শতাংশ মালিকানা অধিগ্রহণ করবে। তাঁর ভাষ্য, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ইরাক থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহের পথ আরও সহজ হবে।

নিরাপত্তা, বাণিজ্য, পরিবহন, পানি ব্যবস্থাপনা এবং জ্বালানি সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যেই আলি আল-জায়েদির তুরস্ক সফর অনুষ্ঠিত হয়। সফরটি এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন ১৯৭৫ সালের ইরাক-তুরস্ক অপরিশোধিত তেল চুক্তির মেয়াদ ২৭ জুলাই শেষ হয়েছে। ওই চুক্তির আওতায় কিরকুক-জেইহান পাইপলাইনের মাধ্যমে ইরাকের তেল তুরস্কের জেইহান বন্দরে পৌঁছাত।

পুরোনো চুক্তি নবায়নের পরিবর্তে দুই দেশ নতুন জ্বালানি সহযোগিতা কাঠামো গড়ে তুলতে আগ্রহী। সংবাদ সম্মেলনে এরদোয়ান নিশ্চিত করেন, ইরাক প্রতিদিন ১০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে। তিনি বলেন, ইরাক থেকে এ পরিমাণ তেল আমদানি শুরু হলে তা তুরস্কের জ্বালানি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তুরস্কের সংবাদমাধ্যম ডেইলি সাবাহর সম্পাদকীয় সমন্বয়কারী মেহমেত চেলিকের মতে, এই চুক্তির তাৎপর্য শুধু জ্বালানি সহযোগিতায় সীমাবদ্ধ নয়। এটি তুরস্কের জ্বালানির উৎস বৈচিত্র্যময় করার পাশাপাশি নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং ‘ডেভেলপমেন্ট রোড’ প্রকল্পকে আরও এগিয়ে নেবে। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালির অনিশ্চয়তার কারণে বিকল্প জ্বালানি ও বাণিজ্যপথের গুরুত্ব আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সংকটের পর বাগদাদের কাছে আঙ্কারার কৌশলগত গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এ পরিস্থিতিতে কয়েক বছর ধরে বন্ধ থাকা ইরাক-তুরস্ক তেল পাইপলাইনের মাধ্যমে পুনরায় তেল রপ্তানি শুরুর বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

তুরস্ক ও ইরাকের সম্পর্ক বর্তমানে তিনটি প্রধান ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে—নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা, জ্বালানি এবং পরিবহন। যদিও দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা ইস্যু, বিশেষ করে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে) নিয়ে মতপার্থক্য এখনো রয়ে গেছে। উত্তর ইরাকে তুরস্কের একাধিক সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এবং পিকেকের উপস্থিতিকে আঙ্কারা এখনো জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে।

সংবাদ সম্মেলনে এরদোয়ান বলেন, সন্ত্রাসমুক্ত তুরস্ক এবং সন্ত্রাসমুক্ত অঞ্চল গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নে ইরাকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোতাহার হোসেন

মোবাইল: ০১৩৩২-৮৪৫৬৯৯

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.