উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কমলগঞ্জে পাহাড়ি ছড়া থেকে সিলিকাবালু উত্তোলন, হুমকিতে পরিবেশ
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন পাহাড়ি ছড়ায় উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অবাধে সিলিকাবালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ একটি চক্র প্রকাশ্যেই বালু উত্তোলন ও বিক্রি করলেও কার্যকরভাবে তা বন্ধ করা যাচ্ছে না। এতে পাহাড়ি ছড়ার স্বাভাবিক প্রবাহ, কৃষিজমি, গ্রামীণ সড়ক ও পরিবেশ মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। পাশাপাশি সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজারে খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর অনুমোদিত ৩৩টি সিলিকাবালুর কোয়ারি রয়েছে। ২০১৩ সালের ১৮ জুন জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জেলার ৫১টি পাহাড়ি ছড়াকে সিলিকাবালুসমৃদ্ধ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে ১৯টি ছড়া অযান্ত্রিক পদ্ধতিতে বালু উত্তোলনের জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছিল।
তবে অভিযোগ রয়েছে, ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে এবং পরিবেশগত বিধি উপেক্ষা করে বালু উত্তোলনের কারণে পাহাড়ি এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে থাকে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) ২০১৬ সালে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে। পরে আদালত পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ (ইআইএ) ও পরিবেশগত ছাড়পত্র (ইসিসি) ছাড়া এসব বালুমহালের নতুন ইজারা কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আদালতের সেই নির্দেশনার পরও কমলগঞ্জ উপজেলার দেওছড়া, সুনছড়া, জপলাছড়া, লাউয়াছড়াসহ বিভিন্ন পাহাড়ি ছড়া থেকে প্রতিদিনই বালু উত্তোলন চলছে। উত্তোলিত বালু ট্রাক, পিকআপ, ট্রলি ও ঠেলাগাড়িতে করে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এ বাণিজ্যের সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল জড়িত থাকায় প্রশাসনিক অভিযানও খুব একটা কার্যকর হচ্ছে না বলে অভিযোগ তাদের।
বাসিন্দারা জানান, প্রশাসনের উপস্থিতির খবর পেলেই বালু উত্তোলনকারীরা দ্রুত এলাকা ছেড়ে চলে যায়। অভিযান শেষ হলে আবারও আগের মতো উত্তোলন শুরু করে। ফলে অভিযান হলেও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ হচ্ছে না।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শাহ সাহেদা আক্তার বলেন, "ইজারা ও আইনগত অনুমতি ছাড়া বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ অবৈধ। এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করা প্রশাসনের দায়িত্ব। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে যারা এসব কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করছে, তারা আদালতের আদেশও লঙ্ঘন করছে।"
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সিলিকাবালু উত্তোলনের অভিযোগ পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছিল। তবে সেখানে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। তিনি জানান, উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ি ছড়ায় অবৈধ বালু উত্তোলন ঠেকাতে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পরিবেশবিদদের মতে, পাহাড়ি ছড়া থেকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে সিলিকাবালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে ছড়ার স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পাহাড় ধস, ভূমিক্ষয়, জীববৈচিত্র্য ধ্বংস এবং কৃষিজমির স্থায়ী ক্ষতির ঝুঁকি আরও বাড়বে। তাই আদালতের নির্দেশনা কার্যকর বাস্তবায়নের পাশাপাশি অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.