প্রশ্নপত্র ফাঁস: দ্রুত বিচারের ঘোষণা মোদির, আন্দোলন অব্যাহত

প্রকাশিত: ২৩ জুলাই, ২০২৬ ১৯:৫৪ (শুক্রবার)
প্রশ্নপত্র ফাঁস: দ্রুত বিচারের ঘোষণা মোদির, আন্দোলন অব্যাহত

ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে চলমান শিক্ষার্থী বিক্ষোভ ও সংসদে অচলাবস্থার মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রশ্নপত্র ফাঁসসংক্রান্ত মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক (দ্রুত বিচার) আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে মোদি বলেন, দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ ও কল্যাণের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু নেই। যারা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

মোদির ভাষায়, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “যারা দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার চেষ্টা করবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”

তবে প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরপরই পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানান লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তিনিও এক্সে দেওয়া এক পোস্টে অভিযোগ করেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে বর্তমান সরকারের আমলেই।

রাহুল গান্ধীর দাবি, শিক্ষা ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনা ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদিই দায়ী। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়েছে এবং দায়ীদের রক্ষা করেছে।

শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে রাহুল বলেন, তাদের তিনটি প্রধান দাবি হলো—শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণ, শিক্ষার্থীদের কাছে সরকারের প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনা এবং আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।

এর আগের দিন রাহুল গান্ধী দাবি করেছিলেন, গত এক দশকে ভারতে ১৫০টির বেশি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। অথচ এখন পর্যন্ত কোনো মামলাতেই দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা যায়নি।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পরও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনড় রয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় দলটি আবারও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছে।

এর আগে এনডিএ জোটের বৈঠকেও প্রশ্নপত্র ফাঁসকে ‘ঘোর পাপ’ বলে মন্তব্য করেছিলেন নরেন্দ্র মোদি।

অন্যদিকে, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও রাজধানী দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের দমন-পীড়নের ঘটনায় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দাবি করছে বিরোধী দলগুলো। তাদের অবস্থান, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছাড়া এ বিষয়ে সংসদে কোনো আলোচনা সম্ভব নয়।

যদিও সরকার জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে সংসদে আলোচনা করতে তারা প্রস্তুত। তবে সরকারের অভিযোগ, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগকে পূর্বশর্ত করে বিরোধীরাই সংসদের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করছে।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোতাহার হোসেন

মোবাইল: ০১৩৩২-৮৪৫৬৯৯

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.