৩ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, তিস্তা ব্যারাজের ৪৪ জলকপাট খোলা
টানা ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে তিনটি নদীর চারটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় আকস্মিক বা স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
সোমবার (২০ জুলাই) প্রকাশিত বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বুলেটিনে বলা হয়েছে, কুশিয়ারা নদীর পানি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার এবং সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে ৩ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে। এছাড়া সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জের ছাতক পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার এবং সোমেশ্বরী নদীর পানি নেত্রকোনার কলমাকান্দা পয়েন্টে ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়েছে। সর্বোচ্চ ২০৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে সুনামগঞ্জের মহেশখোলায়। একই সময়ে ভারতের মেঘালয়ের উইলিয়ামনগরে ৩৭১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা উজানের নদীগুলোর পানির প্রবাহ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
পাউবোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় আরও বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে, সুরমা, সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, সোমেশ্বরী, ভুগাই ও কংস নদীর পানিও বাড়ছে। ফলে শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলে আগামী দুই দিনের মধ্যে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকাতেও পানি বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে পাউবো। আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের বিভিন্ন স্থানে নদীর পানি সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে, যার ফলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। সাঙ্গু নদীর পানি ইতোমধ্যে বৃদ্ধি পেয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগ এবং ভারতের আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ এলাকায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর প্রভাবে চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাহাড়ি নদীগুলোর পানিও দ্রুত বাড়তে পারে।
এদিকে উজানের ঢল ও বৃষ্টির কারণে তিস্তা নদীর পানিও দ্রুত বাড়ছে। সোমবার সকাল ৯টায় নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১০ মিটার, যা বিপৎসীমার মাত্র ৫ সেন্টিমিটার নিচে।
পাউবোর ডালিয়া ডিভিশনের পানি পরিমাপক নুরুল ইসলাম জানান, সকাল ৬টা ও ৯টায় একই উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.