শাসক নয়, জনগণের সেবক হোন’—সরকারি কর্মকর্তাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত: ১৯ জুলাই, ২০২৬ ১৪:৩৭ (বুধবার)
শাসক নয়, জনগণের সেবক হোন’—সরকারি কর্মকর্তাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


জনপ্রশাসনকে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রভাব থেকে বের করে এনে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জনগণের ‘শাসক’ নয়, বরং প্রকৃত ‘সেবক’ হিসেবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।

রোববার (১৯ জুলাই) সকালে রাজধানীর শাহবাগে বিসিএস প্রশাসন একাডেমির মিলনায়তনে ‘জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত চার দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘দক্ষ, জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন: সরকারের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন কর্মকৌশল’ শীর্ষক এই কর্মশালার আয়োজন করে বিসিএস প্রশাসন একাডেমি।

বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সিভিল সার্ভিস রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তাঁর মতে, গত ১৭ বছরে প্রশাসনে যে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার হয়েছে, তা থেকে দ্রুত বেরিয়ে এসে নিরপেক্ষ ও পেশাদার প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। সেই প্রত্যাশা পূরণে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড নিশ্চিত করতে হবে। শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতা পালনের জন্য কোনো কর্মশালা বা কর্মসূচি আয়োজন না করে, সেগুলোর বাস্তব সুফল যেন জনগণ পায়, সেদিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, "আপনারা রাষ্ট্রের সুবিধাপ্রাপ্ত একটি অংশ। তাই নিজেদের জনগণের শাসক মনে না করে তাদের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করুন।"

তিনি আরও বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের সব কার্যক্রম আইন ও বিধিমালার আওতায় পরিচালিত হতে হবে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ও ৩১ দফা কর্মসূচি বিধি অনুসারে বাস্তবায়ন করাই প্রশাসনের অন্যতম দায়িত্ব।

নীতিনির্ধারণে নির্ভুল তথ্যের গুরুত্ব তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের পরিসংখ্যান ব্যবস্থার আমূল সংস্কার প্রয়োজন। তাঁর অভিযোগ, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতের পরিসংখ্যান বিকৃত করা হয়েছিল, যা উন্নয়ন পরিকল্পনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

তিনি বলেন, আদমশুমারি, কৃষি উৎপাদন ও মাথাপিছু আয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সূচকেও ভুল তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। তাই বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-কে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে।

দেশের অর্থনীতিকে আরও টেকসই করতে কৃষি ও রেমিট্যান্স খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি প্রচলিত কৃষির পাশাপাশি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদকে যুক্ত করে কৃষিনির্ভর শিল্প বা এগ্রো-ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এছাড়া দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষার প্রসারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একই সঙ্গে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমকে আরও সক্রিয় করার বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হকের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিসিএস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর (সচিব) মোহাম্মদ আলতাফ-উল-আলম। স্বাগত বক্তব্য ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সিপিটি) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও মাঠ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোতাহার হোসেন

মোবাইল: ০১৩৩২-৮৪৫৬৯৯

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.