ইংল্যান্ডকে হারিয়ে স্টেডিয়ামেই ফকল্যান্ডের দাবি তুলল আর্জেন্টিনা
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারানোর পর উদযাপনের মধ্যেই নতুন বিতর্কে জড়িয়েছেন আর্জেন্টিনার দুই ফুটবলার। ম্যাচ শেষে স্টেডিয়ামে "Las Malvinas Son Argentinas" (মালভিনাস আর্জেন্টিনার) লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও জিওভান্নি লো সেলসো। এই ব্যানারকে ফকল্যান্ড (মালভিনাস) দ্বীপপুঞ্জের ওপর আর্জেন্টিনার সার্বভৌমত্বের দাবির প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, ফিফার স্টেডিয়াম আচরণবিধি অনুযায়ী মাঠ বা গ্যালারিতে রাজনৈতিক, বৈষম্যমূলক কিংবা আপত্তিকর বার্তাসংবলিত ব্যানার, পতাকা বা অন্যান্য সামগ্রী প্রদর্শন নিষিদ্ধ। এ কারণে দুই আর্জেন্টাইন ফুটবলারের এই কর্মকাণ্ড ফিফার নিয়ম লঙ্ঘনের আওতায় পড়তে পারে। যদিও এ বিষয়ে ফিফা এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত দ্বীপপুঞ্জটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে বিরোধ চলছে। ব্রিটিশদের কাছে এটি ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ, আর আর্জেন্টিনায় পরিচিত মালভিনাস নামে।
১৯৮২ সালে এই দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ হয়। প্রায় আড়াই মাসের সেই সংঘাতে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন ও ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা নিহত হন। যুদ্ধ শেষে দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে যুক্তরাজ্য। পরবর্তী সময়ে সেখানে বসবাসকারী অধিকাংশ মানুষও যুক্তরাজ্যের অংশ হিসেবেই থাকার পক্ষে মত দেন।
আর্জেন্টিনা অবশ্য বরাবরই দাবি করে আসছে, ১৮১৬ সালে স্বাধীনতার পর তারা স্পেনের কাছ থেকে দ্বীপগুলোর অধিকার লাভ করে। তাদের অভিযোগ, ১৮৩৩ সালে যুক্তরাজ্য অবৈধভাবে ওই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেয়।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল জয়ের পর লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও জিওভান্নি লো সেলসো হাসিমুখে ব্যানারটি তুলে ধরে সমর্থকদের সামনে প্রদর্শন করেন। তবে ব্যানারটি তাঁদের কাছে কীভাবে পৌঁছায়, সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানা যায়নি।
বিশ্বকাপে রাজনৈতিক বার্তা ঘিরে বিতর্ক এবারই প্রথম নয়। গত মাসে লস অ্যাঞ্জেলেসে ইরানের একটি ম্যাচে দেশটির বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে কিছু ইরানি-আমেরিকান সমর্থক বিপ্লব-পূর্ব ইরানের জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করেছিলেন। তবে সেই ঘটনাতেও মাঠে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.