ওষুধের তীব্র সংকট, ব্যাহত স্বাস্থ্যসেবা
মৌলভীবাজারের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে ওষুধের তীব্র সংকট, জনবল ঘাটতি ও দায়িত্ব পালনে অনিয়মের কারণে প্রত্যাশিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন জেলার প্রায় ১১ লাখ মানুষ। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রত্যন্ত গ্রামের বয়স্ক, গর্ভবতী নারী ও নিম্ন আয়ের বাসিন্দারা।
সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার সাত উপজেলায় মোট ১৮৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ক্লিনিকে সপ্তাহে ছয় দিন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সহকারী ও পরিবার কল্যাণ সহকারী সপ্তাহে তিন দিন করে সেবা দেওয়ার কথা। তবে বাস্তবে অধিকাংশ ক্লিনিকে সিএইচসিপি ছাড়া অন্য কোনো কর্মী থাকেন না। ২২ ধরনের ওষুধ মজুত থাকার নিয়ম থাকলেও বর্তমানে অধিকাংশ ক্লিনিকে শুধু সীমিত পরিমাণে প্যারাসিটামল, মেট্রিল বা স্যালাইন পাওয়া যাচ্ছে। অনেক ক্লিনিকেই কোনো ওষুধ নেই।
সম্প্রতি সরেজমিনে কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল ও রাজনগরের কয়েকটি কমিউনিটি ক্লিনিক ঘুরে দেখা যায়, অনেক ক্লিনিক দুপুরের আগেই বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্ধারিত সময় মেনে ক্লিনিক পরিচালিত হয় না। অনেক সময় রোগীরা এসে ওষুধ না পেয়ে ফিরে যান।
কমলগঞ্জের বাসিন্দা সাবিনা আক্তার জানান, প্রায় এক বছর ধরে কমিউনিটি ক্লিনিকে আগের মতো ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক না থাকায় অনেকেই এখন আর ক্লিনিকে যান না।
রাজনগরের নিদনপুর গ্রামের ফাতিহা বেগম বলেন, আর্থিক সংকটের কারণে নিয়মিত ওষুধ কিনতে পারেন না। গত চার মাস ধরে ক্লিনিকে গেলেও প্রয়োজনীয় ওষুধ পাননি।
স্থানীয় ইমাম আব্দুন নুরের ভাষ্য, আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষ এই ক্লিনিকের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু ওষুধের অভাবে তারা খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন, যা দরিদ্র মানুষের জন্য বড় সংকট তৈরি করছে।
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শ্যামেরকোনা কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি জান্নাত আরা বেগম বলেন, ওষুধের তীব্র সংকটের কারণে রোগীদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে। অনেক সময় রোগীরা অসন্তোষ প্রকাশ করে দুর্ব্যবহারও করছেন।
জেলা সিএইচসিপি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রুবেল আহমেদ জানান, ওষুধসংকটের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তাঁদের আশ্বাস, শিগগিরই পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসমিন বলেন, আগে যেখানে তিন কার্টন ওষুধ বরাদ্দ পাওয়া যেত, এখন সেখানে মাত্র এক কার্টন দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিক ট্রাস্টের মাধ্যমে ক্লিনিকগুলো পরিচালিত হয়। আগের তুলনায় ওষুধের সরবরাহ কমেছে, পাশাপাশি জনবল সংকটও রয়েছে।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.