শাহজালাল মাজারের দান বাক্সে পাওয়া গেল ১৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা
সিলেটে দীর্ঘদিনের প্রচলিত একটি প্রথায় পরিবর্তন এনে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের অর্থ প্রকাশ্যে গণনার উদ্যোগ নেন সদ্য বদলি হওয়া জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। তার তত্ত্বাবধানে সিলগালা করা মাজারের দুটি ডেগ এবং প্রশাসনের স্থাপন করা দানবাক্স খুলে জনসম্মুখে অর্থ গণনা করা হয়।
সোমবার (২২ জুন) দুপুরে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি দল আকস্মিকভাবে মাজার প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে দানবাক্স ও ডেগগুলো খোলে। পরে প্রশাসনের উপস্থিতিতে দরগাহ মাদরাসার শিক্ষার্থীরা প্রায় চার ঘণ্টা ধরে অর্থ গণনার কাজ সম্পন্ন করেন।
গণনা শেষে জানা যায়, মাত্র সাড়ে তিন দিনে দান হিসেবে জমা হয়েছে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। এছাড়া পাওয়া গেছে প্রায় ৭ আনা স্বর্ণ এবং কিছু বৈদেশিক মুদ্রা, যার মধ্যে সৌদি রিয়ালও রয়েছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধার হওয়া অর্থ ও স্বর্ণ যথাযথ প্রক্রিয়ায় হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের নামে সোনালী ব্যাংকের হিসাবে জমা করা হবে।
সম্প্রতি মাজারের দান ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা শুরু হলে জেলা প্রশাসন পুরোনো ডেগ সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করে। পাশাপাশি দান সংগ্রহের পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণের জন্য সিসিটিভি ক্যামেরাও বসানো হয়। প্রশাসনের দাবি, এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য ছিল মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
এদিকে, রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে মো. সারওয়ার আলমকে সিলেটের জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়। তবে এ সিদ্ধান্তের কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
তার প্রত্যাহারের খবরে সোমবার সিলেটে বিভিন্ন সংগঠন ও সাধারণ মানুষের ব্যানারে বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কারণেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, সিলেটের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠায় সারওয়ার আলম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.