তিন ডেগ সিলগালার পেছনে কী ঘটেছিল?
সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে শতাব্দীপ্রাচীন দান ব্যবস্থায় প্রথমবারের মতো সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছে জেলা প্রশাসন। গত বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল বাছিত মোল্লার নেতৃত্বে একটি দল মাজারের তিনটি প্রধান দানের ডেগ সিলগালা করে এবং সেখানে নতুন দানবাক্স স্থাপন করে।
প্রশাসনের এ পদক্ষেপ ঘিরে মাজার-সংশ্লিষ্টদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ এটিকে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন, এটি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যে অযাচিত হস্তক্ষেপ।
কেন এ সিদ্ধান্ত?
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দরগাহ এলাকায় প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর মধ্যে ২৫ কোটি টাকা সরকারি বরাদ্দ এবং বাকি ৫ কোটি টাকা দেওয়ার কথা ছিল দরগাহ কর্তৃপক্ষের। তবে নির্ধারিত অর্থের পুরোটা দিতে না পারায় আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
এর ধারাবাহিকতায় গত ১২ জুন মাজার পরিদর্শনে গিয়ে জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম দেখতে পান, দানের অর্থের কোনো সুনির্দিষ্ট হিসাব বা রেজিস্টার সংরক্ষণ করা হচ্ছে না। নগদ অর্থ গ্রহণ ও ব্যয়ের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
পরে ১৬ জুন খাদেম ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় মাজারের বিভিন্ন অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা এবং ভক্তদের দুর্ভোগের বিষয় উঠে আসে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই দানবাক্স স্থাপন ও ডেগ সিলগালার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
প্রতিক্রিয়া ও বিতর্ক
মাজারের খাদেমদের একাংশ এ সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, শত শত বছর ধরে চলে আসা পদ্ধতি হঠাৎ পরিবর্তন করা ঠিক হয়নি। তাদের মতে, দানের অর্থ শুধু খাদেমদের মধ্যে বণ্টন নয়, মসজিদ ও মাজারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজেও ব্যয় করা হয়।
অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের বক্তব্য, দানের অর্থ সরকারি তহবিলে নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। বরং জনগণের দেওয়া অর্থের সঠিক হিসাব নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আপাতত ওয়াক্ফ এস্টেট, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও মাজার কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থের হিসাব সংরক্ষণ করবে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পরপর ডেগ খুলে অর্থ গণনা ও হিসাব প্রকাশ করা হবে।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.