বেনজীর গ্রেপ্তারে পুলিশের নয়, ইন্টারপোলের ভূমিকাই মুখ্য: শফিকুর রহমান
সাবেক পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদের দুবাইয়ে গ্রেপ্তারের ঘটনায় দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিবর্তে ইন্টারপোলের ভূমিকাকেই প্রধান বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
রোববার রাতে সিলেট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, ‘বেনজীরকে আটক দেশের পুলিশের কৃতিত্ব নয়, এটি ইন্টারপোলের কৃতিত্ব। তাঁর বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার রেড অ্যালার্টও জারি করেনি। তবে বেনজীরের গ্রেপ্তার বাংলাদেশের জন্য একটি অর্জন। এখন তিনি দুবাইয়ের কারাগারেই থাকবেন, নাকি দেশে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে—সেটি সরকারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে।’
জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর পর একটি অর্থবহ নির্বাচনের প্রত্যাশা করেছিল দেশবাসী। তাঁর ভাষায়, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সন্তোষজনক হলেও ফলাফল নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন সুন্দর হয়েছে, কিন্তু ফলাফল সুন্দর হয়নি। ফলাফল নিয়ে অনেক অনিয়ম ও কারসাজির অভিযোগ এখন অনেকেই স্বীকার করছেন। তারপরও আমরা দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছি।’
নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান না করার কারণ ব্যাখ্যা করে জামায়াত আমির বলেন, দেশে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা থেকেই তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর মতে, ‘বিশ্বের যেসব দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছে, সেসব দেশ দীর্ঘ সময়েও সেই সংকট থেকে বের হতে পারেনি। আমরা আশঙ্কা করেছিলাম, নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করলে দেশ অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে চলে যেতে পারত।’
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। শফিকুর রহমান বলেন, সীমান্তে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে এবং উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড দেখা যাচ্ছে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না বলেও জানান তিনি।
সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, জামায়াত চরমপন্থা নয়, দায়িত্বশীল ও মধ্যমপন্থী রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করবে। জনগণের রায় উপেক্ষিত হলে টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে সংসদের বাইরে রাজপথেও আন্দোলন চালানো হবে।
প্রস্তাবিত বাজেটের সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, বাজেটে বিভিন্ন খাতে ছাড়ের ঘোষণা থাকলেও দুর্নীতি দমন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার বিষয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, দেশে কর দেওয়ার সক্ষমতা থাকা মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি হলেও করদাতার সংখ্যা কেন এখনো সীমিত।
গাইবান্ধায় রামমন্দির নির্মাণকাজ স্থগিতের প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো ধর্মীয় বা সামাজিক কর্মকাণ্ড যদি উসকানি সৃষ্টি করে বা সামাজিক সম্প্রীতি নষ্টের ঝুঁকি তৈরি করে, তবে তা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, ‘এ দেশ সবার। শান্তি-শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।’
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.