‘আপা’ ডাকার জেরে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, বিতর্কে ইউএনও

প্রকাশিত: ০৪ জুন, ২০২৬ ১৬:৩৭ (শুক্রবার)
‘আপা’ ডাকার জেরে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, বিতর্কে ইউএনও

ঈদুল আজহার আগে তাজপুর বাজারের বনফুল শোরুম থেকে মিষ্টি কিনেছিলেন পার্শ্ববর্তী বালাগঞ্জ উপজেলার ইউএনও। পরে তিনি অভিযোগ করেন, কেনা মিষ্টি পুরোনো ছিল। বিষয়টি ওসমানীনগর উপজেলার ইউএনও মুনমুন নাহার আশাকে জানানো হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ঈদের পরদিন শুক্রবার বিকেলে সাধারণ ক্রেতা সেজে তাজপুর বাজারের ওই শোরুমে যান ওসমানীনগরের ইউএনও। সেখানে কর্মচারী মান্নানের কাছে মিষ্টির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, ড্রাই মিষ্টিগুলো ঈদের আগের তৈরি এবং অন্যান্য মিষ্টি সেদিনের প্রস্তুত।

একপর্যায়ে ইউএনও বাসি মিষ্টি বিক্রির অভিযোগের কথা তুলে ধরেন এবং নিজের পরিচয় প্রকাশ করেন। এতে ভীত হয়ে কর্মচারী মান্নান দোকান ছেড়ে চলে যান বলে জানা যায়।

পরে শোরুমের ব্যবস্থাপক সুহেল বড়ুয়া ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন এবং মান্নানকে ডেকে আনেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ক্ষমা চাইতে গিয়ে মান্নান ইউএনওকে ‘আপা’ সম্বোধন করেন। এর কিছুক্ষণ পরই তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ঘটনার পর বনফুল কর্তৃপক্ষ মান্নানকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনার হস্তক্ষেপে চাকরি ফিরে পেলেও তাঁকে সিলেট নগরীর খাদিম বিসিক শিল্প এলাকায় অবস্থিত বনফুল কারখানায় বদলি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী মান্নান বলেন, “৩২ বছর ধরে বনফুলে চাকরি করছি। কোনো অভিযোগ ছিল না। সাধারণ ক্রেতা ভেবেই তথ্য দিয়েছিলাম। পরে জানতে পারি তিনি ইউএনও। ম্যানেজারের পরামর্শে ক্ষমা চাইতে গিয়ে ‘আপা’ বলেছিলাম। এরপরই আমাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।”

শোরুম ম্যানেজার সুহেল বড়ুয়া বলেন, কর্মচারী মান্নান ইউএনওকে চিনতে পারেননি এবং যথাযথ গুরুত্বও দেননি। পরে তাঁকে ক্ষমা চাইতে বলা হলে তিনি ‘আপা’ বলে সম্বোধন করেন। এরপর জরিমানার ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, “শুধু ‘আপা’ বলার কারণে কাউকে জরিমানা করা যায় না। ভোক্তা অধিকার বা অন্য কোনো অনিয়মের কারণে ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। বিস্তারিত না জেনে মন্তব্য করা কঠিন।”

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে ইউএনও মুনমুন নাহার আশার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম এবং অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আশরাফুর রহমান জানান, তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। অভিযোগের বিস্তারিত জেনে পরে মন্তব্য করবেন।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোতাহার হোসেন

মোবাইল: ০১৩৩২-৮৪৫৬৯৯

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.