‘বাংলাদেশে কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন, সবটাই জানি’ - মমতার বিস্ফোরক মন্তব্য

প্রকাশিত: ০৩ জুন, ২০২৬ ১৬:১৬ (বৃহস্পতিবার)
‘বাংলাদেশে কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন, সবটাই জানি’ - মমতার বিস্ফোরক মন্তব্য

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, বাংলাদেশের একটি আলোচিত হত্যা মামলার এক আসামিকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও সে বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু না বলার জন্য তৎকালীন রাজ্য সরকারকে অনুরোধ করেছিলেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

মঙ্গলবার (২ জুন) কলকাতার ধর্মতলায় আয়োজিত এক জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে এ দাবি করেন মমতা। গত এপ্রিলে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর এটি ছিল তার প্রথম বড় জনসভা।

বক্তব্যে মমতা বলেন, বাংলাদেশের ওই আসামি মেঘালয় হয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশের পর রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ) তাকে গ্রেপ্তার করে। তবে বিষয়টি জনসমক্ষে না আনার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ থেকে এক বড় খুনিকে আমাদের এসটিএফ গ্রেপ্তার করেছিল। এ ঘটনা নিয়ে বাংলাদেশে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছিল। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে ফোন করে বলেছিলেন, বিষয়টি যেন বাইরে প্রকাশ না করা হয়, কারণ এটি দেশের স্বার্থের সঙ্গে জড়িত।”

যদিও বক্তব্যে তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি, তবে দাবি করেন যে ওই ঘটনার পেছনের অনেক তথ্য তার জানা আছে। এ সময় তিনি বলেন, “কাকে দিয়ে খুন করানো হয়েছিল, কার কার নাম এসেছিল—সবই জানি। কিন্তু দেশের স্বার্থে আমি এখনো নাম বলছি না।”

বক্তৃতার একপর্যায়ে সমর্থকেরা ওই ব্যক্তির নাম প্রকাশ করার আহ্বান জানালে মমতা তা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, “না, আমি নাম বলব না। বাংলাদেশের মানুষ উত্তাল হয়ে যেতে পারে, আমি সেটা চাই না। আমি দেশকে ভালোবাসি।”

এ সময় কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এনআইএ, ইডি ও সিবিআইকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের অভিযোগও তোলেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, তার আমলেও পশ্চিমবঙ্গের সিআইডি ও এসটিএফ ছিল, তবে তারা কখনো অন্যায়ভাবে কাজ করেনি।

মমতার এই বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে তিনি যে হত্যা মামলার কথা উল্লেখ করেছেন বা যার গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ তুলেছেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো নাম প্রকাশ করেননি।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোতাহার হোসেন

মোবাইল: ০১৩৩২-৮৪৫৬৯৯

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.